নতুন করে মজুর সম্পদের অনুসন্ধানে দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আফজাল হোসেনের সহযোগী এবং ঢাকা ট্রেড সেন্টার উত্তরের সভাপতি ও বঙ্গবাজার কমপ্লেক্স মার্কেটের সভাপতি মোজাম্মেল হক মজুর বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। দুদক নতুন করে তার সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করেছে। আফজাল হোসেন সিন্ডিকেট করে দোকান বাণিজ্য করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও মজু ভোল পাল্টে বিএনপি নেতা হয়ে যাওয়ায় সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এ নিয়ে তিন পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ প্রথম পর্ব।

মোজাম্মেল হোসেন মজুর অনিয়ম নিয়ে গত ৯/১০/২৪ তারিখে দুদক এ অভিযোগ যাওয়ার পর দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে বারবার নোটিশ করার পরেও তিনি দুদককে ম্যানেজ করে ধরাছোয়ার বাইরে রয়ে গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সম্প্রতি দুদক নতুন করে তার সম্পদের হিসাবসহ অনিয়মের তদন্ত শুরু করেছে। তবে এবারও তিনি দুদককে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন বলে একাধিক সুত্র জানিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে আওয়ামী লীগের লেজুড়বৃত্তি করে কোটি কোটি টাকার মালিক হলেও এখন বিএনপি নেতা হয়েছেন টাকার বিনিময়ে। ২০০৮ সালে এমপি নাজিম উদ্দিনকে লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার আহ্বায়ক বানানো হলেও তাকে বাদ দিয়ে কৌশলে ও টাকার জোরে রামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির অহ্বায়ক হয়েছেন। ফলে উপজেলা বিএনপি এখন দ্বিধা বিভক্ত। এক পক্ষের নেতৃত্বে মজু এবং আরেক পক্ষে নাজিম। অথচ মোজাম্মের হক গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের এমপি আফজালের সহযোগী হিসেবে দাপটের সঙ্গে ছিলেন। আওয়ামী লীগের শাসন আমলে রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে নিজের, আত্মীয়স্বজন ও পরিচিত জনের নামে দোকান নিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় কিনেছেন একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। গড়ে তুলেছেন বিলাসবহুল বাণিজ্যিক ভবন। আওয়ামী লীগের আমলে গুলিস্তান এলাকায় দাপিয়ে বেড়িয়েছেন।

দুদক সুত্র জানায়, রাজধানীর গুলিস্তানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মালিকানাধীন বেশকয়েকটি মার্কেটে দোকান বরাদ্দে ভয়াবহ জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে আফজাল সিন্ডিকেট। তারা গুলিস্তান হকার্স মার্কেট ও বঙ্গবাজার হকার্স মার্কেট নামে একসময়ের সুপরিচিত মার্কেট দুটি এখন ঢাকা ট্রেড সেন্টার উত্তর এবং ঢাকা ট্রেড সেন্টার দক্ষিণ মার্কেট, নগর প্লাজা, সিটি প্লাজা ও জাকের সুপার মাকের্ট দোকান বরাদ্দের মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছে মোটা অঙ্কের টাকা। ঢাকা ট্রেড সেন্টার উত্তরে ১৪৪টি ও ঢাকা ট্রেড সেন্টার দক্ষিণে ৪৯টি দোকান বরাদ্দে ছলচাতুরি করে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই সিন্ডিকেট। প্রায় ৩ শতাধিক দোকানের মধ্যে ১৯৩টি দোকান কাগজপত্র জালিয়াতি করে ভুয়া ছবি ও পরিচয়পত্রের মাধ্যমে বরাদ্দ দেয়া হয়। সরকারি মার্কেটে প্রভাব খাটিয়ে নকশা বহির্ভূতভাবে শত শত দোকান বানিয়ে বিক্রি করা হয়।

বঙ্গবাজার কমপ্লেক্স মার্কেটে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত সদস্য ছিল ২৩৭০ জন। ২০১২-১৩ সালে আফজাল চক্র ৫৯১ জনকে ভুয়া ক্ষতিগ্রস্ত দেখিয়ে সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করে আফজাল চক্রের অন্যতম সুবিধাভোগী মোজাম্মেল হক মজুসহ কতিপয় যুবলীগ নেতা ভাগাভাগি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। তিনি এই সিন্ডিকেটের সদস্য ছিলেন বলে অভিযোগ গেছে দুদক এ। অথচ ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য পদ বাগিয়ে নিয়েছেন। রাজধানীর এনেস্কো টাওয়ারে একাধিক পরিচালক শেয়ার রয়েছে। আপনার নামে ও আত্মীয়স্বজনের নামে শতাধিক দোকান রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

গত ১৮/৮/২৫ তারিখে দুদক মোজাম্মেল হক মজুকে হাজির হতে বলেছিল। অভিযোগের বিষয়ে মাজাম্মেল হক মজুকে বার বার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসআপ এ বক্তব্য জানতে চেয়ে ম্যাসেজ দিলেও কোন জবাব না পাওয়া তার এক ভাতিজাকে ফোন করলে তিনি জানান, একটি মহল দুদক এ মোজাম্মেল হক মজুর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দাখিল করেছে তাকে হয়রানি করার জন্য। তিনি দুদক এ হাজিরা দিয়ে তাদের চাহিদা অনুযায়ী সব কাগজপত্র দিয়েছেন এবং তিনি যে কোন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না সে বিষয়ে দুদককে জানিয়েছেন।

# আগামী পর্বে পড়ুন ৫ আগস্ট হাসিনা সরকার পতনের পর বিএনপি সেজে যেভাবে বহাল তবিয়তে মোজাম্মেল হক মজু।