রমনা পার্কের সৌন্দর্যবর্ধন কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ সংসদীয় কমিটির

সংসদ প্রতিবেদক :
রমনা পার্কের ভেতরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজে নকশা বহির্ভূত স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংসদীয় কমিটি। এছাড়া নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ করা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি। কমিটির বৈঠকে নকশা বহির্ভূত স্থাপনা অপসারণের সুপারিশ ও মূল নকশা অনুযায়ী দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটি সদস্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, বজলুল হক হারুন, মনোয়ার হোসেন চৌধুরী ও আনোয়ারুল আশরাফ খানসহ সংশি¬ষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, ৪৭ কোটি ৯৬ লাখ ১২ হাজার টাকা ব্যয়ে ওই প্রকল্প নেওয়া হয় ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে। গত জুন মাস পর্যন্ত এ কাজে অগ্রগতি হয়েছে ১৫ শতাংশ। কমিটি সূত্র জানায়, প্রকল্পের কাজ গত বছরের নভেম্বরে শুরু হয়। ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকার এই প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু সেটা কোন ভাবেই সম্ভব নয় বলে মনে করছে সংসদীয় কমিটি। বৈঠকে কাজের অগ্রগতি নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা। বৈঠকে নকশা বহির্ভূত স্থাপনা নির্মাণের তথ্য তুলে ধরেন কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। পরিকল্পনা কমিশন অনুমোদনের পর সেই নকশা পরিবর্তনের সুযোগ অধিদপ্তরের আছে কিনা তা জানতে চান কমিটি সদস্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দ।

বৈঠকে গণপূর্ত অধিদপ্তর, রাজউক, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর, স্থাপত্য অধিদপ্তর ও হাউজিং এন্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট এর চলমান প্রকল্পসমূহের সার্বিক কাজের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে রাজধানীর মিরপুরে বস্তিবাসিদের জন্য ভাড়াভিত্তিক প্রকল্পের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন ও নতুন প্রকল্প গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। এছাড়া কক্সবাজার সমূদ্র সৈকতের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিকট দ্রুত হস্তান্তরের তাগিদ দেওয়া হয়।
এর আগে ১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে রমনা পার্ক এলাকার মসজিদ ছাড়া নকশা বহির্ভূত সব স্থাপনা, জরাজীর্ণ ভবন ও রেস্টুরেন্ট ভেঙে কফিশপ নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছিল। বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে রাজধানীর রমনা পার্কের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির কাজে ধীরগতিতে সদস্যরা অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও রমনা পার্ক উন্নয়নে নেওয়া প্রকল্পে ধীরগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। ওই বৈঠকে কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে অর্থ বরাদ্দসহ নকশা প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত হলেও শুধু ওয়াকওয়ে নির্মাণের কাজ হয়েছে। পার্ক এলাকায় একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ও পার্টি সেন্টার থাকায় সেখানকার পরিবেশ প্রতিনিয়ত দুষিত হচ্ছে। পৃথিবীর কোথাও বড় পার্কগুলোতে রেস্টুরেন্ট থাকার নজির নেই। বৈঠকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে উন্মুক্ত কফিশপ নির্মাণের জন্য ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। ওই বৈঠকে গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদও কাজটি দ্রুত শেষ করার ওপর তাগিদ দেন।

এদিকে সম্প্রতি গৃহায়ন ও গনপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ গত ২৭ ডিসেম্বর রমনা পার্কের উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেন। তিনি দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদ দেন। এসময় গণপূর্ত মন্ত্রনালয়ের সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতার প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।

 

Print Friendly, PDF & Email