কুলাউড়ার পরিকল্পিত উন্নয়নে এমপি নাদেলের ব্যতিক্রম উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে ১৯৯৬ সালে ৭ম জাতীয় সংসদে জয় পেয়েছিল নৌকা। এর পর ৮ম থেকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকার কোন প্রার্থী এ আসনে জয়ী হতে না পারলেও দীর্ঘ প্রায় ২২ বছর পর দ্বাদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচনে আসনটি আওয়ামী লীগের হাতে আসে তৃণমুল রাজনীতি থেকে উঠে আসা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল এর জয়ের মধ্য দিয়ে। নৌকা প্রতীক নিয়ে তিনি ৭৩ হাজার ৫২৮ ভোটে জয়ী হন।

জয়ী হওয়ার পরই তিনি নির্বাচনী এলাকার পরিকল্পিত উন্নয়নের ব্যতিক্রম উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রান্তিক লোকজনের কথা শুনতে বিভিন্ন এলাকায় আয়োজন করছেন মতবিনিময় সভার। এমপিকে কাছে পেয়ে অভিযোগ অনুযোগ ও দাবির কথা জানাচ্ছেন উপস্থিত জনতা। মতবিনিময়ের মাধ্যমে ব্যতিক্রমী পরার্মশসভা করায় এলাকায় প্রশংসিত হচ্ছেন এমপি নাদেল। গত ২ মার্চ কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের উন্নয়ন ও সম্ভাবনা শীর্ষক মুক্ত আলোচনা ও মতবিনিময় সভা আয়োজন করেন তিনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, থানার ওসি, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর উপস্থিতিতেই এই সভার আয়োজন করা হয়। এমপি ও প্রশাসনকে কাছে পেয়ে নানা অভিযোগ অনুযোগ ও দাবির কথা জানান উপস্থিত লোকজন। তারা তুলে ধরেন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ, মনু নদীর চলমান বেড়িবাঁধের কাজের অনিয়ম, জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কে ওভারলোডে মালামাল পরিবহনে সড়কের ক্ষতির কথা। এছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনে কয়েকটি খাল খনন, পানীয় জলের সমস্যা, খেলার মাঠ তৈরির দাবি করেন তারা। জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা, ব্যবসায়ী, কৃষক, যুবক, বাগান পঞ্চায়েতের নেতৃবৃন্দ একযোগে এসব সমস্যা নিরসনের দাবি তোলেন।

স্থানীয় জনগণ ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামীণ রাস্তার সমস্যা ও ভোগান্তির কথা জানান। ইউনিয়নটি সীমান্ত এলাকায় হওয়ায় মাদক চোরাচালান রোধে পদক্ষেপ নিতে বলেন। জবাবে সংসদ সদস্য রাস্তাগুলো করার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে আইডি তৈরি করে রাস্তাটি তালিকাভুক্ত করার নির্দেশনা দেন। বাগানে চা শ্রমিকদের জন্য স্কুল স্থাপনের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাগানে স্কুল করার আশ্বাস দেন। সেই সঙ্গে পানীয় জলের সমস্যা নিরসনের জন্য ৮-১০টি পরিবারকে সম্পৃক্ত করে নলকূপ স্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সেই সঙ্গে মাদক চোরাচালানরোধে থানার ওসিকে নির্দেশনা দেন।
শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেন, দেশের মানুষ যে আশা ও স্বপ্ন নিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় এনেছে; সেই আশা ও স্বপ্নপূরণে সকলকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। উন্নয়নের গতি অব্যাহত থাকলে এশিয়ার সেরা দেশ হবে বাংলাদেশ। তাই যার যার অবস্থান থেকে সততার সঙ্গে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর সততা ও মেধা দিয়ে বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছেন। আর বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সততা, প্রজ্ঞা, মেধা এবং রাজনৈতিক দূরদর্শিতা দিয়ে এমন এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছেন যে, শুধু বাংলাদেশ নয়, আন্তর্জাতিক মহল তাঁর প্রতি খুবই শ্রদ্ধাশীল। তাই আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে। সকল ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সরকারের সকল সেবার মান বৃদ্ধি করে মানুষের দ্বারপ্রান্তে সেবার মান নিশ্চিত করতে হবে। জনতার উদ্দেশ্যে নাদেল বলেন, সংসদ সদস্য, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দদের নিয়ে একটি টিম ওয়ার্ক করে মেলবন্ধন করার জন্য আপনাদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়েছে। আগামীতে উপজেলার বাকি ইউনিয়নে এভাবে মতবিনিময় করা হবে।

এলাকার লোকজন জানান, দীর্ঘ ২২ বছর ধরে এই এলাকায় আওয়ামী লীগের কোন এমপি না থাকায় এলাকার উন্নয়ন তেমন একটা হয়নি। ২২ বছর পর দলীয় প্রার্থী হিসেবে শফিউল আলম চৌধুরী জয়ী হওয়ায় তারা উন্নয়নের ব্যাপারে আশাবাদী। এমপি নাদেল বলেন, কুলাউড়ার সর্বস্তরের মানুষ উন্নয়নের স্বার্থে নৌকায় ভোট দিয়েছেন, আমার ওপর আস্থা রেখেছেন। এ জন্য কুলাউড়াবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। কুলাউড়ার উন্নয়নে নিরলস চেষ্টা করে যাব। কুলাউড়ার উন্নয়নের নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে কাজ করবো। তিনি বলেন, দেশের অনেক উপজেলায় যে উন্নয়ন হয়েছে সেইরকম উন্নয়ন কুলাউড়ায় হয়নি দলীয় এমপি না থাকায়। তিনি সমাজের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য সুযোগ বৃদ্ধি, মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর প্রদক্ষেপ গ্রহণ, প্রত্যেকটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ তৈরি, জলাবদ্ধতা-যানজট নিরসন, এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওর ও পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করবেন।

শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল ছাত্রলীগের রাজনীতি করে ধীরে ধীরে ওঠে এসেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে। স্কুলজীবনেই ছাত্রলীগের সাথে জড়িত হন তিনি। ১৯৮৬ সালে তিনি সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি হন। পরবর্তীতে সিলেট সরকারি কলেজ এবং এমসি কলেজে পড়াকালীন ছাত্রলীগের রাজনীতি করেন। পরে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হন। ১৯৯৩ সালে তিনি সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ১৯৯৭ সালে সভাপতি হন। এরপর সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগে শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক হন নাদেল। ২০০৪ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের পর তিনি সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। নাদেলের গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কৌলায়।
২০১৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। ছাত্র রাজনীতির দীর্ঘ সময়ে তিনি স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন, বহুজাতিক তেল-গ্যাস কম্পানী ‘সিমিটা’র বিরুদ্ধে আন্দোলন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মহিলা হলের (জাহানারা ইমাম) নামকরন নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তির পায়তারা প্রতিহত করতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল সংগঠনকে নিয়ে আন্দোলন সহ বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহন করেন এবং নেতৃত্বদান করেন। যার ফলশ্রুতিতে বারবার কারাবন্দী হন তিনি।

সর্বশেষ ২০০৭ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সংগ্রাম ও আন্দোলনের অভিযোগে আবারও কারাবরণ করতে হয় তাকে। রাজনীতি ছাড়াও জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন অঙ্গনে রয়েছে তার সম্পৃক্ততা এবং পারিবারিক ভাবেও রয়েছে বেশ সুনাম। শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের আরেকটি বড় পরিচয় হল, তিনি এ উপমহাদেশের প্রখ্যাত ওলিয়ে কামিল আল্লামা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী বিশকুটি (রহ.) এর দৌহিত্র। মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার কৌলায় জন্মগ্রহণ করা নাদেল এর পিতার নাম শামসুল আলম চৌধুরী ও মাতার নাম মাশহুদা আক্তার। তিনি সিলেট থেকে প্রকাশিত দৈনিক উত্তরপূর্ব পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক।

 

Print Friendly, PDF & Email