নির্বাসন থেকে রাষ্ট্রের নেতৃত্বে তারেক রহমান, শপথ নিলেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের রাজনীতি মানেই উত্তাল ইতিহাস, আকস্মিক পতন আর অপ্রত্যাশিত প্রত্যাবর্তনের গল্প। বাংলাদেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে এটি কয়েকবার ঘটেছে। আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ক্ষেত্রেও এটি ভিন্ন ছিল না। কিন্তু তারেক রহমানের জীবন যেন সেই ইতিহাসেরই এক জীবন্ত উপাখ্যান ক্ষমতার প্রাসাদ থেকে কারাগার, সেখান থেকে দীর্ঘ নির্বাসন, অবশেষে সামনে থেকে নেতৃত্বে দিয়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়। দেশের হাল ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। মঙ্গলবার বাংলাদেশের একাদশ প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন তারেক রহমান, যার নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিল বিএনপি।
এর মধ্য দিয়ে বিএনপি দুই দশক পর আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরল। আর বাংলাদেশ নতুন একজন রাজনীতিবিদকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পেল তিন দশক পর। রেওয়াজ ভেঙে বঙ্গভবনের বদলে এবারের শপথ অনুষ্ঠান হয় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে তারেক রহমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন ও গোপনীয়তার শপথ নেন। প্রধানমন্ত্রী শপথ নেওয়ার পর রাষ্ট্রপতি তাকে অভিনন্দন জানান। এরপর নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা পর্যায়ক্রমে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে শপথ নেন। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
রাষ্ট্র পরিচালনায় তারেক রহমানের সঙ্গী হচ্ছেন ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর তারেক তার নতুন সরকার সাজিয়েছেন ৪০ জন নতুন মুখ নিয়ে। তাদের মধ্যে বিএনপির জোটের শরিক দুই নেতাও রয়েছেন। অনেকেই প্রথমবার এমপি হয়েই সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে গেছেন। তারেক রহমান নিজেও এবারই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন প্রতিমন্ত্রীরা। তাঁদের শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ শেষে শপথ নিলেন মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা। তাঁদের শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁকে শপথ পড়ান। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু), মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন।
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সরকারে ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। ২০ বছর পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে দলটি। বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় আছেন ৫০ জন। এর মধ্যে ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। টেকনোক্র্যাট তিনজন। এবারের মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ আছে অনেক, যারা আগে কখনও মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হননি। প্রথমবার নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নেওয়া নেতাও আছেন। মন্ত্রীদের ২৫ জনের মধ্যে ১৭ জনই নতুন মুখ। প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে ২৪ জনই নতুন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এবারই প্রথম মন্ত্রিসভার সদস্য হয়েছেন।






