বাবার আসনে ধানের শীষে লড়বেন ২১ নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ঘোষিত ২৩৭ প্রার্থীর মধ্যে দলের দ্বিতীয় প্রজন্মের প্রার্থী রয়েছেন বেশ কয়েক জন। একসময় প্রভাবশালী নেতা ছিলেন যাদের সন্তানরা এবার ধানের শীষের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনের মাঠে নামছেন। কেউ আগেও ভোটের ময়দানে ছিলেন, কেউ সম্পূর্ণ নতুন মুখ। দলের এই তরুণ প্রজন্মের ২১ নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা মূলত সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী নেতাদের উত্তরসূরি। আইনজীবী, চিকিৎসক, ব্যবসায়ী ও শিক্ষিত তরুণ রাজনীতি করা এই তালিকায় রয়েছেন। কেউ পারিবারিক রাজনীতি থেকে আসছেন, কেউ আবার নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি।

পঞ্চগড়-১ : মোহাম্মদ নওশাদ জমির সাবেক স্পিকার জমিরউদ্দিন সরকারের ছেলে। ৯৪ বছর বয়সি জমিরউদ্দিন সরকার এখনও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। নওশাদ বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক সম্পাদক।

ঢাকা-৪ : তানভীর আহমেদ রবিন সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদের ছেলে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব। ২০০৬ সালে বিদ্যুৎ ও পানির দাবিতে রাস্তায় নামা মানুষের ধাওয়ার ঘটনায় আলোচনায় ছিলেন তার বাবা।

ঢাকা-৬: ইশরাক হোসেন অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে। বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক কমিটির সদস্য। ২০২০ সালের ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে প্রায় ২ লাখ ভোটের ব্যবধানে হেরেছিলেন, পরে নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল ফল বাতিল করে তাকে মেয়র ঘোষণা করে।

নাটোর-১ : ফারজানা শারমিন পুতুল সাবেক যুব ও ক্রীড়া ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে। আইনজীবী ও নাটোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন করা দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশনের সদস্য ছিলেন।

কুষ্টিয়া-২ : রাগীব রউফ চৌধুরী সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রউফ চৌধুরীর ছেলে। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং সুপ্রিম কোর্টে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্যানেল আইনজীবী।

যশোর-৩ : অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সাবেক খাদ্য, তথ্য ও বন ও পরিবেশমন্ত্রী তরিকুল ইসলামের ছেলে। জাতীয় নির্বাহী কমিটির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক। ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশগ্রহণ করেছিলেন।

ফরিদপুর-২ : শামা ওবায়েদ সাবেক মহাসচিব ও মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের মেয়ে। সাংগঠনিক সম্পাদক। ২০১৮ সালের নির্বাচনে এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন।

ফরিদপুর-৩ : চৌধুরী নায়াব ইউসুফ সাবেক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের মেয়ে। দাদা ইউসুফ আলী চৌধুরী (মোহন মিয়া) ব্রিটিশ ও পাকিস্তান শাসনামলে প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও যুক্তফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য।

মৌলভীবাজার-৩ : নাসের রহমান সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের ছেলে। মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি। ২০০১ সালের উপ-নির্বাচনে ওই আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

চট্টগ্রাম-৫ : মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের ছেলে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামসহ বিএনপির বিভিন্ন সংগঠনে যুক্ত।

চট্টগ্রাম-৭ : হুম্মাম কাদের চৌধুরী প্রয়াত স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে। বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য।

চট্টগ্রাম-১৪ : মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা সাবেক বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক।

গাজীপুর-৪ : শাহ রিয়াজুল হান্নান রিয়াজ দলের স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আ স ম হান্নান শাহ’র ছেলে। ২০১৮ সালে এই আসনের ধানের শীষ প্রার্থী ছিলেন। বর্তমানে গাজীপুর জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক।

গাজীপুর- ২ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন পেয়েছেন এম মঞ্জুরুল করিম রনি। তিনি গাজীপুরের সাবেক মেয়র ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল মান্নানের ছেলে।

মানিকগঞ্জ-২ : মঈনুল ইসলাম খাঁন সাবেক শিল্পমন্ত্রী শামসুল ইসলাম খানের ছেলে। ২০০৬ সালের জানুয়ারিতে উপ-নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য।

ময়মনসিংহ-৯ : ইয়াসের খান চৌধুরী উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আনওয়ারুল হোসেন খান চৌধুরীর ছেলে। নান্দাইল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক।

শেরপুর-৩ : মাহমুদুল হক রুবেল সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল হকের ছেলে। ২০০১ সালের নবম সংসদের সদস্য এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য।

শেরপুর-২: ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী সাবেক হুইপ প্রয়াত জাহেদ আলী চৌধুরীর ছেলে। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য।

শেরপুর-১: সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা  জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হযরত আলীর মেয়ে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী ছিলেন। ৩২ বছর বয়সি পেশায় চিকিৎসক এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক।

ঝিনাইদহ-৩ : এ আসনে প্রার্থী হিসাবে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া মেহেদী হাসান ওই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম মাস্টারের ছেলে।