সংরক্ষিত নারী এমপিদের যোগদানে পূর্ণতা পেল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের (এমপি) শপথ গ্রহণ এবং ৭ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদীয় কার্যক্রমে যোগদানের মধ্য দিয়ে পূর্ণতা পেয়েছে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। সাধারণ আসনের নির্বাচিত সদস্যদের পাশাপাশি নারী প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে সংসদে সাংবিধানিক প্রতিনিধিত্বের কাঠামো সম্পূর্ণ হয়েছে। ফলে আইন প্রণয়ন, নীতি নির্ধারণ এবং জনগণের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংসদ আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভূমিকা পালনের সুযোগ পেয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকারসহ রাষ্ট্র ও রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ বহু পদে নারীরা দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত নারীর কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিরা শুধু নারী বিষয়ক ইস্যু নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা, পরিবেশ এবং স্থানীয় উন্নয়নসহ বিভিন্ন জাতীয় বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে থাকেন।
সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নতুন সদস্যদের শপথের পর সংসদের বিভিন্ন স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন ও সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও গতি আসবে। অনেক নারী সদস্যকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যেখানে তারা নীতি পর্যালোচনা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কাজে ভূমিকা রাখবেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সংসদে নারীদের উপস্থিতি কেবল সংখ্যাগত প্রতিনিধিত্বের বিষয় নয়; বরং এটি গণতান্ত্রিক অন্তর্ভুক্তি ও অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। নারী সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ সংসদীয় বিতর্ককে আরও বহুমাত্রিক ও বাস্তবমুখী করে তুলতে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ ৩ মে অনুষ্ঠিত হয়। সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। এবারের সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বিএনপি থেকে ৩৬ জন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোট থেকে ১৩ জন মনোনীত হন। এছাড়া স্বতন্ত্র থেকে একজন নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন।
বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা হলেন সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, মোসা. ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, সাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুন রায় চৌধুরী, জীবা আমিনা খান, মাহমুদা হাবিবা, মোছা. সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার (ঠাকুর), শামীম আরা বেগম স্বপ্না, মোসাম্মৎ শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, মোছা. সুরাইয়া জেরিন, মানসুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলো, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, মোছা. সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা আক্তার, মাধবী মার্মা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা।
জামায়াতে ইসলামী জোটের নারী সংসদ সদস্যরা হলেন নুরুন্নিসা সিদ্দিকা, মারজিয়া বেগম, অ্যাডভোকেট সাবিকুন নাহার মুন্নি, নাজমুন্নাহার নিলু, প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ, মেরিনা সুলতানা, মাহফুজা খানম, সাজেদা সামাদ এবং জুলাই শহীদ জারিফ আব্দুল্লাহর মা রোকেয়া বেগম, ডা. মাহমুদা মিতু ও নুসরাত তাবাসসুম (এনসিপি), তাসমিয়া প্রধান (জাগপা) এবং ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা করিম (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস)।
##







