টাঙ্গাইলে জনসম্পৃক্ত রাজনীতি ও উন্নয়নের নতুন কারিগর এমপি লাভলু
নিজস্ব প্রতিবেদক:
টাঙ্গাইলের নাগরপুর ও দেলদুয়ার উপজেলা নিয়ে গঠিত টাঙ্গাইল-৬ আসনটি দেশের রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর জনপদ হিসেবে পরিচিত। যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীবেষ্টিত এই অঞ্চলের মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষি হলেও নদীভাঙন, অনুন্নত সড়ক যোগাযোগ এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শূন্যতা এখানকার উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করেছে। তবে ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এই জনপদে পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়াল লাভলু। দীর্ঘ ১৭ বছর পর নাগরপুর-দেলদুয়ারের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে যে রায় দিয়েছে, তার প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়নে এক মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন।
মো. রবিউল আওয়াল লাভলু ১৯৬৭ সালের ১ জানুয়ারি টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার নাগরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মো. মিজানুর রশীদ আনসারি এবং মাতা রুবিয়া বেগম। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের হাতেখড়ি ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী এই নেতা মেধা ও মনন দিয়ে ছাত্র রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।
১৯৮৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মোহাম্মদ মহসিন হল ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু। এরপর ১৯৮৯ সালে তিনি ডাকসুর অধীনে হাজী মোহাম্মদ মহসিন হল ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হন। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তিনি রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ছাত্ররাজনীতির ধারাবাহিকতায় ১৯৯৩ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি মূল দল বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং নাগরপুর উপজেলা ও টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ২০২৬ সালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জনগণের বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
উন্নয়নে অগ্রাধিকার:
নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নে সংসদ সদস্য লাভলু যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও সড়ক বিভাগে তিনি ইতিমধ্যে নাগরপুর-দেলদুয়ার আঞ্চলিক সড়ক সংস্কারসহ গ্রামীণ রাস্তা পাকা করার একাধিক প্রকল্প প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা কৃষিপণ্য পরিবহনে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আনতে সহায়ক হবে। এছাড়া গ্রামীণ বাজারের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জরাজীর্ণ কালভার্ট নির্মাণের মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদের জীবনমান উন্নয়নে তিনি নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীর করাল গ্রাসে প্রতি বছর নাগরপুর ও দেলদুয়ারের বিশাল এলাকা বিলীন হয়ে যায়। নদীভাঙন কবলিত মানুষের আর্তনাদ বন্ধে তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে একাধিক বৈঠক করেছেন এবং সংসদে এই সমস্যাটি জোরালোভাবে উত্থাপন করেছেন। টেকসই বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন ও ভাঙন রোধ এখন তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
টাঙ্গাইল-৬ আসনের বড় একটি অংশ কৃষিনির্ভর হওয়ায় কৃষকদের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা প্রদানে তিনি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন। সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, সহজ শর্তে ঋণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য তিনি মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সাথে মতবিনিময় করছেন। এছাড়া বাজারে ভেজাল সার ও কীটনাশক বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
সংসদ সদস্য লাভলু শিক্ষার প্রসারে এলাকার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছেন। নতুন ভবন নির্মাণ, আসবাবপত্র সরবরাহ এবং তথ্যপ্রযুক্তি সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি তিনি মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। স্বাস্থ্যখাতের দীর্ঘদিনের সংকট কাটাতে তিনি নাগরপুর ও দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক নিয়োগ এবং আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সরবরাহের জন্য দাবি জানিয়েছেন। মাতৃসেবা জোরদার করার পাশাপাশি তিনি ব্যক্তিগত ও দলীয় উদ্যোগে এলাকায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প এবং রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করছেন।
এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে তিনি মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি মনে করেন, রাজনীতি হচ্ছে মানুষের সেবার জন্য, ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য নয়। যুব সমাজকে বিপথগামিতা থেকে রক্ষায় তিনি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ত করছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে তরুণদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছেন তিনি।
ব্যক্তিজীবনে একজন সফল ব্যবসায়ী হয়েও রবিউল আওয়াল লাভলু রাজনীতিকে পেশা হিসেবে নয়, বরং ব্রত হিসেবে নিয়েছেন। তাঁর মতে, রাজনীতি মানুষের জন্য, ক্ষমতা মানুষের ওপর নয়। তিনি নিয়মিত গণশুনানির মাধ্যমে সরাসরি সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনেন এবং তা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেন। তাঁর সংসদীয় এলাকায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে তিনি রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি ঘোষণা করেছেন, নাগরপুর ও দেলদুয়ার আর উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার হবে না। স্থানীয় বিএনপির নেতাদের দাবি, দীর্ঘদিন পরে টাঙ্গাইল-৬ আসনে সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে। তরুণদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সংগঠনকে সক্রিয় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়াল লাভলু বলেন, নাগরপুর ও দেলদুয়ার দীর্ঘদিন উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার। যোগাযোগব্যবস্থা, নদীভাঙন ও স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা দূর করতে জাতীয় সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন তিনি। স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে তিনি নিজের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবেও উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, এলাকায় কিশোর গ্যাং, মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে চান। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সামাজিক সচেতনতা কার্যক্রম বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। ১৭ বছর পর নাগরপুর-দেলদুয়ারের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে। আমি এলাকার উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে চাই।







