সংসদে দ্বিতীয় প্রজন্মের ৩৪ এমপি
রফিকুল ইসলাম সবুজ:
বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এক যুগান্তকারী অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও পটপরিবর্তনের পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক ছিল রাজনীতির ‘দ্বিতীয় প্রজন্মের’ সরব ও শক্তিশালী উপস্থিতি। পারিবারিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, নতুন নেতৃত্ব এবং গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার এক মিশেল দেখা গেছে এই নির্বাচনে। অন্তত ২৯ জন এমন প্রার্থী সংসদ সদস্য হিসেবে সরাসরি নির্বাচিত হয়েছেন, যাঁদের পিতা বা মাতা একাধিকবার সংসদ সদস্য ছিলেন, কেউ কেউ ছিলেন মন্ত্রী বা এখনও রয়েছেন জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এর মধ্যে বিএনপির ২৬ জন এবং বিজেপির ১ জন ও জামায়াতের ২ জন। এছাড়া সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নে আরও ৫ জন নির্বাচিত হয়েছেন যাঁদের পিতা এমপি ছিলেন। এনিয়ে বর্তমান সংসদে দ্বিতীয় প্রজন্মের এমপির সংখ্যা ৩৪ জন।
পিতা-মাতার দেখানো পথেই সক্রিয়ভাবে ভোটের মাঠে ছিলেন তাঁদের সন্তানরা। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আন্দোলন-সংগ্রামেও জোরালো ভূমিকা পালন করেছেন তাঁরা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দ্বিতীয় প্রজন্মের প্রার্থী হিসেবে জয় পেয়েছে সবচেয়ে বেশি। একসময় প্রভাবশালী নেতা ছিলেন যাঁদের সন্তানরা এবার ধানের শীষের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনের মাঠে নেমে জয় পেয়েছেন। তাঁদের এই বিজয় রাজনীতিতে মেধা ও অভিজ্ঞতার এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কয়েকজন তরুণ নেতা তাঁদের পিতাদের হারানো আসন দীর্ঘ সময় পর পুনরুদ্ধার করে চমক দেখিয়েছেন।
তারেক রহমান
এবারের নির্বাচনে দ্বিতীয় প্রজন্মের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র হিসেবে তিনি শুধু পারিবারিক ঐতিহ্যের বাহকই নন, বরং দলের পুনর্গঠনেও প্রধান কারিগর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
গত এক দশকে তারেক রহমান দলের একটি শক্তিশালী ভার্চুয়াল কাঠামো গড়ে তুলেছেন যা তৃণমূলের সঙ্গে কেন্দ্রের যোগাযোগ সুদৃঢ় করেছে। তিনি ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ এই দুটি আসনেই বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে নেতৃত্বের সক্ষমতা প্রমাণ করেছেন। ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমান ৭২ হাজার ৬৯৯ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী খালিদুজ্জামান পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৩০০ ভোট। এ ছাড়া বগুড়া-৬ আসনে তারেক রহমান পেয়েছেন ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট। বর্তমানে তিনি সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী। ফলে তারেক রহমান শুধু দ্বিতীয় প্রজন্মের এমপি নন, দ্বিতীয় প্রজন্মের প্রধানমন্ত্রীও।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম
এবারের নির্বাচনে দ্বিতীয় প্রজন্মের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা আরেকজন আলোচিত ব্যক্তি হলেন ভোলা-৩ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম। তাঁর বাবা ডা. আজাহার উদ্দিন আহমদ ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য।
বিরোধী দলের ডেপুটি লিডার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এছাড়া ১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। বাবার মতোই একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি মোট ৭ বার নির্বাচিত হয়ে সংসদে এসেছেন।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে নির্বাচিত আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর রাজনৈতিক পটভূমি পারিবারিকভাবেই গড়ে ওঠে। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর পিতা মাহমুদুন্নবী চৌধুরী ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আইনসভার সদস্য (এমএলএ) এবং ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট সরকারের যোগাযোগ ও ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক অঙ্গনে তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ছিল। আমির খসরু এর আগেও এমপি ও মন্ত্রী ছিলেন।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু
সিরাজগঞ্জ-২ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর পিতা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের আইনসভার সদস্য (এমএসএ) ও তৎকালীন পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এর আগে চতুর্থ, পঞ্চম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
আফরোজা খানম
মানিকগঞ্জ-৩ (সাটুরিয়া-সদর একাংশ) আসনে সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত বিএনপি নেতা শিল্পপতি হারুনার রশিদ খান মুন্নুর মেয়ে বিএনপি মনোনীত আফরোজা খানম ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ সাইদ নূর রিকশা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২৪২ ভোট। আফরোজা খানম রিতা দীর্ঘদিন ধরে মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় এবং বর্তমানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। তাঁর পরিবারের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মানিকগঞ্জ অঞ্চলে বহু পুরোনো। তাঁর পিতা ছিলেন চারবারের সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী। সেই পারিবারিক ভিত্তির কারণে আফরোজা খানমেরও স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব রয়েছে। তিনি প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রিসভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী হিসেবে স্থান পেয়েছেন। স্বাধীনতার পর মানিকগঞ্জ-৩ আসন থেকে তিনিই প্রথম নারী এমপি হিসেবেও ইতিহাস গড়েছেন।
গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী
গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ১ লাখ ৩৭ হাজার ২১২ ভোপ পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার পিতা পাকিস্তান সংসদের সাবেক স্পিকার এ কে এম ফজলুল কাদের চৌধুরী।গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এর আগে ১৯৮৬ সালে তৃতীয় এবং ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
জাকারিয়া তাহের সুমন
কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনে ১ লাখ ৬৯ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। তাঁর বাবা প্রয়াত একেএম আবু তাহের এ আসন থেকে তিনবারের সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০০৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ৭২ বছর বয়সে সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় মারা যান একেএম আবু তাহের। বাবার মৃত্যুর পর ওই বছরের ডিসেম্বরে উপ-নির্বাচনে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য জয়ী হন জাকারিয়া তাহের সুমন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বরুড়া অঞ্চলে বিএনপির সংগঠন পরিচালনা, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা এবং তৃণমূল রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির
সিলেট-১ আসনে বিএনপির খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৩৬টি ভোট পেয়ে জয় পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৮৩টি ভোট পেয়েছেন। মুক্তাদিরের বাবা প্রয়াত খন্দকার আবদুল মালিক সাবেক সংসদ সদস্য।
আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমন
পিরোজপুর-২ (ভাণ্ডারিয়া-কাউখালী-নেছারাবাদ) আসন থেকে নির্বাচিত আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। তাঁর রাজনৈতিক পটভূমিও সমৃদ্ধ। তাঁর পিতা নূরুল ইসলাম মঞ্জুর ছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী, পিরোজপুর জেলা বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে নবম সেক্টরের বেসামরিক প্রধান। তিনি ১৯৯৬ সালে পিরোজপুর-২ (ভাণ্ডারিয়া-কাউখালী) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
ইশরাক হোসেন
সাবেক এমপি ও মন্ত্রী সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মোট ৭৮ হাজার ৮৫০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবদুল মান্নান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬৯৭ ভোট। ইশরাক হোসেন ২৩ হাজার ১৫৩ ভোটের ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে হারিয়েছেন। ইশরাক হোসেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য। সাদেক হোসেন খোকার উত্তরসূরি ইশরাক হোসেন ঢাকার নগর রাজনীতিতে তরুণদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয় ও আলোচিত। ঢাকা-৬ আসনে তাঁর বিজয়কে পুরান ঢাকার রাজনীতির এক নতুন সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচিত হওয়ার পর ইশরাক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।
ফারজানা শারমিন পুতুল
নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে জয়ী হওয়া ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল সাবেক যুব ও ক্রীড়া এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে। তিনি নাটোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন করা দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশনের সদস্য ছিলেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ৪১৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৪১৯ ভোট। ফারজানা শারমিন পুতুল সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
যশোর-৩ আসনে জয় পাওয়া বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সাবেক খাদ্য, তথ্য, বন ও পরিবেশমন্ত্রী তরিকুল ইসলামের ছেলে। বিএনপি মনোনীত অমিত ২ লাখ ১ হাজার ৩৩৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এই আসনে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল কাদের পেয়েছেন ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৬৩ ভোট। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত যশোর-৩ আসনে বিজয়ী হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তাঁর পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রেখেছেন।
শামা ওবায়েদ
ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনে বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদ ৩২ হাজার ৯৫৩ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৯০৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকের মো. আকরাম আলী পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৯৫৬ ভোট। শামা ওবায়েদ বিএনপির সাবেক মহাসচিব এবং সাবেক এমপি ও মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের মেয়ে। তিনি বর্তমানে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। শামা ওবায়েদ দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সক্রিয় রয়েছেন।
নায়াব ইউসুফ
ফরিদপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী নায়াব ইউসুফ ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আবদুত তাওয়াব পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ১১৫ ভোট। নায়াব ইউসুফ বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এবং একাধিকবারের এমপি ও সাবেক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের মেয়ে। তাঁর দাদা ইউসুফ আলী চৌধুরী (মোহন মিয়া) ব্রিটিশ ও পাকিস্তান শাসনামলে প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও যুক্তফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। নায়াব ইউসুফ বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। তিনি তৃতীয় প্রজন্মের একজন সংসদ সদস্য হিসেবে দাদা মোহন মিয়া ও বাবা চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার সাফল্যের সাথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও নগরের আংশিক) আসনে জয়ী হওয়া বিএনপির প্রার্থী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. নাসির উদ্দীন পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৫৮৯ ভোট। মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের ছেলে। ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিএনপির সাংগঠনিক রাজনীতিতে সক্রিয় এবং দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ইয়াসের খান চৌধুরী
ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে জয়ী হওয়া ইয়াসের খান চৌধুরী উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আনওয়ারুল হোসেন খান চৌধুরীর ছেলে। তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী নান্দাইল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক। ধানের শীষ প্রতীকে ইয়াসের খান পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৭৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চেয়ারম্যান এ কে এম আনোয়ার হোসেন চান পেয়েছেন ৭০ হাজার ১৫২ ভোট। ইয়াসের খান প্রায় ৩৫ বছর পর বাবা আনোয়ারুল হোসেন খান চৌধুরীর আসন ফিরে পেলেন। ১৯৯১ সালে বাবা এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এমপি হয়েছিলেন।
হুমাম কাদের চৌধুরী
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে নির্বাচিত বিএনপির হুমাম কাদের চৌধুরী ১ লাখ ১ হাজার ৪৫ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের এ টি এম রেজাউল করিম পেয়েছেন মাত্র ৪১ হাজার ৭১৯ ভোট। হুমাম কাদের চৌধুরী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সাবেক এমপি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা প্রয়াত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে। দেশের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত এই তরুণ নেতার দাদা ছিলেন সাবেক স্পিকার এ কে এম ফজলুল কাদের চৌধুরী। ফলে হুমাম কাদের তৃতীয় প্রজন্মের একজন সংসদ সদস্য।
সাঈদ আল নোমান
বিএনপির প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাবেক এমপি ও মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমান বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে চট্টগ্রাম-১০ (পাহাড়তলী-ডবলমুরিং) আসনে নির্বাচন করে জয়ী হয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীকে সাঈদ আল নোমান পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৯৭৮ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী পেয়েছেন প্রায় ৭৭ হাজার ভোট। দ্বিতীয় প্রজন্মের তরুণ অন্য সংসদ সদস্যদের মতো তিনিও চট্টগ্রামে ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
রেজা আহমেদ (বাচ্চু মোল্লা)
কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে ৮০ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত বিএনপির রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা। তিনি ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা বেলাল উদ্দীন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৮৫ ভোট। তিনি এর আগেও বিএনপি থেকে এ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর পিতা প্রয়াত আহসানুল হক মোল্লা একাধিকবার এ আসনের এমপি ছিলেন। বাচ্চু মোল্লা কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর অঞ্চলে বিএনপির দীর্ঘদিনের সংগঠক ও প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিকভাবে তিনি মূলত তৃণমূলভিত্তিক নেতা হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। স্থানীয় পর্যায়ে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক সংগঠন গড়ে তোলার মাধ্যমে তিনি নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন।
এম নাসের রহমান
মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনে বড় ব্যবধানে জয়ী হওয়া বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য এম নাসের রহমান সাবেক এমপি এবং অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র। তিনি এর আগেও এই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭৫৭টি ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল মান্নান পেয়েছেন ৭৭ হাজার ৬৩৬ ভোট। এম নাসের রহমান ৭৯ হাজার ১২১ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
ড. রেজা কিবরিয়া
হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া। তিনি সাবেক এমপি ও অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে। রেজা কিবরিয়া ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ৯৯৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় জোটভুক্ত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা মো. সিরাজুল ইসলাম রিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ৫৬ হাজার ১৩২ ভোট।
মোহাম্মদ নওশাদ জমির
পঞ্চগড়-১ আসনে জয় পাওয়া মোহাম্মদ নওশাদ জমির সাবেক স্পিকার জমিরউদ্দিন সরকারের ছেলে। ৯৪ বছর বয়সি জমিরউদ্দিন সরকার এখনও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। নওশাদ বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক সম্পাদক। ১৭ বছর আগে দলের হারিয়ে ফেলা এই আসনটি পুনরুদ্ধার করেছেন তিনি। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নওশাদ জমির ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৬৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপি নেতা সারজিস আলম শাপলা কলি প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯ ভোট।
এম মঞ্জুরুল করিম রনি
এ ছাড়া দ্বিতীয় প্রজন্মের এমপি হিসেবে সংসদে রয়েছেন গাজীপুর-২ আসনের এম মঞ্জুরুল করিম রনি। তিনি সাবেক মন্ত্রী আব্দুল মান্নানের ছেলে। মঞ্জুরুল করিম রনি ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬০৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী আলী নাছের খান পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৯৫০ ভোট।
মঈনুল ইসলাম খাঁন
মানিকগঞ্জ-২ আসনে জয়ী হওয়া বিএনপির মঈনুল ইসলাম খাঁন সাবেক এমপি ও শিল্পমন্ত্রী শামসুল ইসলাম খানের ছেলে। তিনি ১ লাখ ৭৫ হাজার ৭৭৬ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম খেলাফত মজলিসের (দেওয়াল ঘড়ি) প্রার্থী মো. সালাহ উদ্দিন পেয়েছেন ৮১ হাজার ৫৩১ ভোট। মঈনুল ইসলাম খান এর আগে ২০০৬ সালের জানুয়ারিতে উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
ডা. এম এ মুহিত
সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা. এম এ মুহিতের বাবা চক্ষু বিশেষজ্ঞ মরহুম অধ্যাপক ডা. এম এ মতিন পাঁচবারের এমপি এবং জিয়াউর রহমান সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন । বাবার আসনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হলেন তিনি।
মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী
শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৫৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ৪৫৬ ভোট। ফাহিম চৌধুরী জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ প্রয়াত জাহেদ আলী চৌধুরীর ছেলে।
আন্দালিব রহমান পার্থ
ভোলা-১ (সদর) আসনে সাবেক এমপি ও সাবেক মন্ত্রী নাজিউর রহমান মঞ্জুরের ছেলে বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বিজয়ী হয়েছেন। বিএনপি জোটের প্রার্থী হয়ে দ্বিতীয়বারের মতো তিনি এমপি নির্বাচিত হন। এর আগে ২০০৮ সালে তিনি এ আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। আন্দালিব রহমান পার্থ পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৪৬২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৭৭৩ ভোট। পার্থ তাঁর সাবলীল বক্তৃতা ও টেলিভিশন টকশোতে যুক্তিনির্ভর আলোচনার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
মাসুদ সাঈদী
পিরোজপুরে দুটি আসন থেকে সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর দুই ছেলে জামায়াতে ইসলামীর হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তাঁদের মধ্যে বড় ছেলে শামীম সাঈদী বিএনপি প্রার্থীর কাছে হেরে গেছেন। পিরোজপুর-১ আসনে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ছোট ছেলে মাসুদ সাঈদী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৩২ হাজার ৬৫৯ ভোট পেয়ে জয় পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রার্থী আলমগীর হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ৭ হাজার ১০৫ ভোট।
মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান
পাবনা-১ (সাঁথিয়া) থেকে নির্বাচিত জামায়াতে ইসলামীর ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নাজিবুর রহমানের পিতা সাবেক এমপি ও মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী। তিনি জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে ১৯৯১ ও ২০০১ সালে সংসদ সংসদ নির্বাচিত হন। নাজিবুর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২৮ হাজার ৪৬৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ভিপি শামসুর রহমান (ধানের শীষ) প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৬৬৩ ভোট।
সংরক্ষিত নারী আসনের দ্বিতীয় প্রজন্মের চার এমপি হলেন সেলিমা রহমান, নিপুণ রায় চৌধুরী, মাহমুদা হাবীবা ও ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেত্রী সেলিমা রহমানের বাবা আবদুল জব্বার খান ছিলেন জাতীয় পরিষদের স্পিকার ও সংসদ সদস্য। নিপুণ রায় চৌধুরীর বাবা বর্তমান মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি আগেও মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ছিলেন। নিপুণ রায় চৌধুরী বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। দলীয় কর্মসূচি, গণতন্ত্র ও নির্বাচনী সংস্কার বিষয়ে তিনি নিয়মিত বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় রাজনীতিতে তার অংশগ্রহণ ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে।
কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা হাবীবা রাজশাহী-৫ আসনের সাবেক এমপি মরহুম মুহাম্মদ আয়েন উদ্দীনের মেয়ে। আর সংসদ সদস্য সাকিলা ফারজানা চট্টগ্রাম-৫ আসনের সাবেক চারবারের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ মরহুম সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের জ্যেষ্ঠ কন্যা। বাবার উত্তরসূরি হিসেবে তিনি চট্টগ্রামের রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয়।দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি রাজপথে এবং আইনি অঙ্গনে বিএনপির নীতি-আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন।
এছাড়া জেবা আমিন খান পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য ও পাকিস্তান সরকারের সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আখতার উদ্দিন আহম্মেদের মেয়ে। জেবা আমিন বিএনপির অঙ্গসংগঠন মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি ঝালকাঠি জেলা বিএনপির একজন সদস্য হিসেবেও সক্রিয় রয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবারভিত্তিক উত্তরাধিকার নতুন নয়; তবে এবারের নির্বাচনে দ্বিতীয় প্রজন্মের নেতাদের ব্যাপক সাফল্য ইঙ্গিত করছে যে রাজনৈতিক দলগুলো এখন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরিদের ওপর আরও বেশি আস্থা রাখছে।







